গোমতী

কুত্তামারা রইদ পড়তাসে। এমন রইদের তলে আমি আর সৌরভ খাড়ায়া আছি সোয়ারীঘাটে। মুখোমুখি হয়া আছি বুড়িগঙ্গার। সৌরভ বিড়ির পুটকিতে টান দিয়া আমার দিকে বিড়ি আগায়া দিয়া জিগাইলো,"যাবি নাকি?" "যামু তো",কইলাম আমি। বিড়ি নিলাম না। সৌরভ হালায় আবার টান দিয়া কইলো,"চল তাইলে।" "হ",কইয়া নদীর দিকে হাটা দিলাম। যতই কাছে যাই ততই পচা গুয়ের মতোন গন্ধ নাকের ভিতর দিয়া মগজে গিয়া লাগে। বমি আইসা পড়তে চায়। আমি আস্তে দিই না। সৌরভ থাইকা বিড়ি লইয়া অইটার গুয়ায় টান দেই। একটু ভাল লাগে। একেবারে নদীর কাছে পৌছায়া একটা নৌকায় উঠার পায়তারা করি। কোনটায় উঠমু বুইঝা পাইনা। "জিঞ্জিরাঘাট!যাইবেন জিঞ্জিরাঘাট" "আহেন। আমারটায় আহেন।" "যাইবেন কই?" এমন কইরা ডাকে মাঝিরা। শেষমেশ খাইলা একটা গিয়ায় উঠলাম জিঞ্জিরা যাবার লাইগা। খালি আমাদের দুইজন রে লইয়া নৌকা ওপারের দিকে যাওন শুরু করে। গন্ধ আরো তীব্র হয়।আমার খারাপ লাগে। গোমতী আমারে ডাকে। আমি সাড়া দিবার পারিনা। "একটা বিড়ি দে",সৌরভ রে কইলাম। "শেষ",হালায় কয়। "অ"আমি আর কিছু কইলাম না। "মাঝি ভাড়া কতো?",জিগাইলাম মাঝিরে। নৌকা হালকা কাইত হয়। স্রোতের ধাক্কায় কুচকুচা কালাপানির হালকা ঝাপটা আইসা গায়ে লাগে। "তিন টেকা", মাঝি কয়। "বাল!", সৌরভ কয় গায়ে পানি লাগায়। "মগের মুল্লুক নাকি!হুদা তিন টাকা?!",আমি কই। মাঝি কিছু কয় না। ডাইন দিকে উদাস হইয়া তাকায়া থাকে। নৌকা বায়। আমিও আর কিছু কই না। এমনে এমনে নৌকা গিয়া জিঞ্জিরাঘাটে গিয়া ভীড়ে। টালমাটাল নৌকা হইতে সাবধানে লাফায়া নামি পাড়ে পইড়া থাকা মরা কচুরিপানার উপরে। এই ঘোর গরমে ছোটো ছোট সিড়ি বাইয়া উঠারে মনে হইতে থাকে রক ক্লাইম্বিং। কেরানীগঞ্জের দিকে যাইতে যাইতে আমি আর সৌরভ আলাপ করতে থাকি মধ্যবিত্তের বিবিধ এডভেঞ্চার। রাস্তার দুইপাশে দেখি হরেক রকম দোকানপাট। দিল্লী কাবাব ঘর। ইসমাইল বিরিয়ানি হাউজ। পাসা কনফেকশনারি। লাকড়ির স্তুপ। পুরানা দিনেরর পাব্লিক টয়লেট। আরো কত কী। এইভাবে যাইতে যাইতে আমরা একটা পর্যায়ে এই সিদ্ধান্তে পৌছাই যে এই সব এডভেঞ্চার ভুয়া। বানানি। আর মেইন এডভেঞ্চার হইলো যে এই বালের মধ্যবিত্তরে ধ্বংস কইরা দেওয়া। কাউয়া কা কা কইরা ডাইকা উইড়া যায়। এক বুড়া রিকশাওয়ালার কনি খাওনের শব্দ, দৃশ্য ছাপাইয়া আমরা রোমাঞ্চিত হই।আরো সামনে যাই। খাম্বার,যার মাথায় জট পাকায়া আছে পৌরাণিক সব তার,পাশ দিয়া যাওয়ার সময় আমাদের অর্থহীন,উপদ্রবসম এই জীবনে একটা উদ্দেশ্য খুইজা পাই। অতঃপর আমরা বুঝতে পারি যে এই আপাত স্বাপ্নিক পথে আমরা বড় একা,বড় অচেনা ও একা। এমনকি আমাদের নাই কোনো প্রেমিকা। এক দেওয়াল ঘেরা বাড়ির দেওয়াল গেইষা খাড়ায়া থাকে আম গাছ,সেও একা পুরা এলাকায়।এইভাবে এক বিষণ্ণতা আমাদের গ্রাস করে, বিশেষ কইরা সৌরভ রে। প্রেম বারবার আইতে পারে কিন্তু প্রেমিকা আহে একবারই। আর এইভাবে আমাদের দৈনন্দিন সকল আলাপ গিয়া থামে আমাদের প্রেমিকাদের আলাপে, যাদের লগে বাতচিত করবারও সুযোগ হয় নাই। তখন নিজেদের আরো অপ্রয়োজনীয় মনে হইতে থাকে। আর এমন আন্ধারে হাতড়াইয়া খুঁজি দান্তের হাত, পন্তে ভেকিওর পাশ দিয়া যাওনের সময় একবার বিয়াত্রিচরে দেখোইনা দান্তের হাত,যারে স্বর্গে লইয়া গেছিলো বিয়াত্রিচ,যার সব লেখায় আছে বিয়াত্রিচ। তাই আমরা দুই বন্ধু ওগোরে বিয়াত্রিচ ভাবি। হৃদপিণ্ড গইলা যাইতে থাকে,চা খাইতে ইচ্ছা করে। তাই রাস্তার পাশের এক চাইনিজ হোটেলের তলের টংয়ে গিয়া চা খাই। আমাদের আলাপ আর আগায় না। মাথার ভিতরে এক মাইয়া মানুষরে দেখি,দূর অতীতে যারে দেইখা আমার মনে পড়তো গোমতী নদী,শান্ত একাকী এক নদী যার পাড়ে বাস করে আমার শৈশব।

Rakib Rashid

Comments

Popular posts from this blog

প্রিতম প্রেয়সী

পটলকুমার গানওয়ালা

Racism