কাউয়া এবং আমি

কয়দিন ধৈরা একটা কাউয়ার লগে আমার বন্ধুত্ব চলতাছে।কুচকুইচ্চা কালা তবে গলার কাছে নেকলেছের মতো শাদা পালকের গোল হার আছে,এই হারটা দেইখাই তারে আমি চিনি।প্রায়ই আসে যখন আমি বারান্দায় বৈসা থাকি।দুইজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়া আলাপ হয়।হে তার পরিবারের দুর্গতি নিয়া আলাপ করে আমি শুনি।আমি মেসের দুর্ভিক্ষের কথা পারি।প্রথম মাসে বুয়ার হাতের রান্না ফাইভস্টারের বাবুর্চিরেও হার মানায় কিন্তু দ্বিতীয় মাস থেইক্কা মারাত্মক অখাদ্য হওয়ার কারন নিয়া আমি বিশাল এক বক্তৃতা দেই,হে কান খারা কৈরা শুনে আর প্রবলবেগে মাথা নেরে আমার লগে একমত হয়।এই সুযোগে কয়েকটা বইয়ের নাম মনে করার চেষ্টা করি।মনে করতে হিমশিম খায়া যাই।এরপরেও কাহলিল জিবরানের 'দ্যা প্রফেট' বইটার নাম মনে আশে। বিভিন্ন বানী তারে শুনাই।বুঝুক আর না বুঝুক হে দুই ঠোট ফাক কৈরা শুনে।তার পাঁচ মিলিমাটার ব্যাসের চোখে অবাক হওয়ার পাশে মুগ্ধতা দেখে আমি চমৎকৃত হই।মনে দুইগুন বেশি জোর পাই।তখন নতুন উদ্যমে আরেকটা বক্তৃতা শুরু করি।এমনেই আমাদের বন্ধুত্ব আগাইতে থাকে।একদিন আমি বারান্দায় বইসা বেন্সন এ্যান্ড হ্যাড্জেস এর পাছাটা ঠোটের চিপায় নিয়া জোরে একটা টান দিয়া ঠোট গোল কৈরা দুইটা রিং ছাড়লাম।ধুয়ার কুন্ডলির দিকে চাইয়া আছি ,দেহি একটা তীর রিং এর ভিত্রে দিয়া আমার দিকে ছুইট্টা আইতাছে।বুকটা ছ্যাৎ কৈরা উঠলো।ডরে আমি টুল থেইকা পড়তে পড়তে দেখলাম তীর টির কিচ্ছু না এইডা আমার কাউয়া বন্ধুর কালা ঠোট। ঠোটের পিছনে হেও আছে।তখন নিজেরে যথেচ্ছ স্বাভাবিক রেখে তারে যিগাইলাম 'বন্ধু ভাল আছো?' হে কিছু কৈল না।আমার দিকে তাকায়া আবার অন্যদিকে চাইয়া রইলো।আমি চিন্তিত হইলাম,আমি যে তারে দেইখা ডরাইছি হে বুইজ্জা ফেলাইলো না তো?বন্ধুর সামনে গড়ে উঠা আমার ব্যক্তিত্তে একটা ছিদ্র দেখলাম।তখনই ছিদ্রের উপ্রে কস্টেপ মাইরা হে আমারে নিস্তার দিল।কইলো 'কয়দিন হৈল বিয়া করছি,বউ নিয়া ঘুরে বেড়াইছি,তুমার লগেও সময় কৈরা আড্ডা দিছি,এহন তো চাইর সন্তানের খাওনও যোগার করন লাগে।এত্তকিছু কেমনে করি? তুমি তো জ্ঞানিমানুষ একটা বুদ্ধি দেও।টেনশনে আর বাচি না' আমি মহাজ্ঞানির ভাব ধৈরা কতক্ষন চুপথাইকা হাতের বিড়িটা তার দিকে বারায়া দিলাম।কৈলাম টান দেও টেনশন কমবো। হে মুখ বেকাইয়া আমার দিকে তাকাইলো,'আমার যক্ষ্মা এহনও সারে নাই' কইয়া কাউয়া বন্ধু উড়ালপাইরা গেলগা। আমি অপমানিত বোধ করলাম।হে কি আমারে পাত্তা দিলনা? তখন দেখলাম আমার ব্যক্তিত্তে বেশ কয়েকটা বড় বড় ছিদ্র হয়ে গেছে।

একমাস ধরে কাউয়া বন্ধু আমার সাথে আলাপ করতে আসে না।বড়ই নিঃসঙ্গ বোধ করছি।আমার বক্তৃতা শুনারও কেও নাই।ইদানিং খেয়ালে বেখায়ালে মুখ দিয়া বক্তৃতা বাইর হয়। অর্ধেক খাওয়া বিড়িডা বারান্দায় গ্রিলের কাছে রাইখা টয়লেটে গেছি,হঠাৎ যেন পরিচিত একটা কাউয়ার ডাক শুনলাম।তারাতারি কাম শাইরা বাইর হইয়া দেখি হে উইরা যাইতাছেগা।ডাক দিলাম কিন্তু হে হুনলো না।তখন বিড়িটা নেওয়ার লাইগা হাত বাড়াইতেই দেখি বিড়ির পাছায় একদলা শাদা গু।বুজলাম কাউয়া বন্ধু যে আমারে ত্যাগ করছে হেই কথা জানানের লাইগাই আইছিল।ত্যাগের নমুনা স্বরূপ হে আমার বিড়ির পাছায় মলত্যাগ কৈরা গেল।ভাবলাম শালা কাউয়ায় কি আমারে বুঝাইতে চাইছে মলত্যাগ=সঙ্গত্যাগ? কাউয়ার এই প্রতিশোধ পরায়ণতা আর ভাবপ্রকাশের পদ্ধতি দেইখা আমি পুরাই হুগাচুদা হয়া গেলাম ।   😑😑                                                                                                                                                                      
                            Shakil Reza
                                                                                                                                     

                                   
      
                          








                                   











Comments

Popular posts from this blog

প্রিতম প্রেয়সী

পটলকুমার গানওয়ালা

Racism